Falcon Feed

দগ্ধ রোগীদের পাশে আমরা কীভাবে থাকতে পারি — ডা. তাসনিম জারার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

দগ্ধ রোগীদের পাশে আমরা কীভাবে থাকতে পারি — ডা. তাসনিম জারার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

সম্প্রতি ঢাকার উত্তরায় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে, এবং অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাদের বেশিরভাগই আগুনে দগ্ধ। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সহানুভূতির ঢেউ উঠেছে, অনেকেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন বা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে এমন সহানুভূতির সময়েও কিছু সতর্কতা জরুরি—না জানলে আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারি।জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব এবং চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা এই দুঃসময়ে দগ্ধ রোগীদের সেবা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়ে ৭টি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন, যা আমাদের সবার জানা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, পোড়ার পর রোগীদের ইনফেকশন বা সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং সেটিই প্রাণনাশের বড় কারণ হয়ে ওঠে। কারণ পুড়ে যাওয়া ত্বক আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হারায়। এই সময়ে সামান্য অসাবধানতাও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।ডা. জারার দেওয়া প্রথম পরামর্শ হলো, রোগীর আশপাশে ভিড় করা একেবারেই অনুচিত। অনেকেই সহানুভূতি নিয়ে দেখতে যান, কিন্তু এতে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। খুব জরুরি না হলে রোগীর ঘরে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন। যদি যেতেই হয়, সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে, গ্লাভস, মাস্ক ও গাউন পরে যাওয়াই উচিত।দ্বিতীয়ত, ৭০% অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত। যারা রোগী দেখতে আসবেন, তাদের বিছানায় বা আশপাশে বসতে না বলাই ভালো।তৃতীয়ত, প্রাথমিক চিকিৎসায় অনেকেই ডিম, টুথপেস্ট বা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেন। এটি বিপজ্জনক। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে এবং পোড়ার প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।চতুর্থত, পোড়া জায়গার ড্রেসিং পরিবর্তনের সময় অবশ্যই সঠিক নিয়মে হাত ধুতে হবে। যদি আপনাকে ড্রেসিং করতে হয়, তাহলে আগে চিকিৎসক বা নার্সের কাছ থেকে শেখা জরুরি।পঞ্চমত, ড্রেসিংয়ের সময় পোড়া জায়গা খেয়াল রাখতে হবে। যদি ফুলে যায়, ব্যথা বাড়ে বা পুঁজ দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানাতে হবে।ষষ্ঠত, যাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে তাদের শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।সপ্তমত, রোগীর টিটেনাস টিকা দেওয়া আছে কি না তা জেনে নেওয়া দরকার। না থাকলে ডাক্তারকে জানান।এই পরামর্শগুলো মেনে চলা আমাদের নাগরিক দায়িত্বের অংশ। একটু সচেতন হলে আমরা একটি জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারি। শুধু সহানুভূতিই নয়, সচেতন সহানুভূতি সবচেয়ে বেশি জরুরি।

সূত্র : ইত্তেফাক

Related Articles