Falcon Feed

শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী: সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী: সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই শোক ও ধ্বংসের মাঝে, একটি নাম আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে উঠেছে: শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী, যিনি ঐ স্কুলেরই একজন শিক্ষক ছিলেন।

২১শে জুলাইয়ের এই ঘটনায় বিমানটি সরাসরি স্কুলের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে, মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় এবং অসংখ্য শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অকল্পনীয় ভয়াবহতার মুখে, মাহরীন চৌধুরী নিজে গুরুতর দগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, নিজের কথা না ভেবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেন এবং তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

তাঁর এই আত্মত্যাগ গভীর প্রভাব ফেলেছে, দেশের মানুষের মনোযোগ এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর তাঁর ফেসবুক পাতায়।

আকবরের পোস্টে মাহরীনের আত্মত্যাগের সারমর্ম powerfully প্রকাশ পেয়েছে: “দৌড়াও, ভয় পেও না, আমি আছি।” তিনি একজন মায়ের নিজের সন্তানের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং মাহরীন কিভাবে সেই একই সীমাহীন স্নেহ তাঁর শিক্ষার্থীদের প্রতিও উজাড় করে দিয়েছিলেন, তা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “হেরে গেলেন মা মাহরীন, জিতে গেলেন শিক্ষিকা মাহরীন ম্যাডাম,” এবং যোগ করেন, “জিতিয়ে গেলেন শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে।”

আকবরের মর্মস্পর্শী কথাগুলো সমাজের বিশৃঙ্খল প্রেক্ষাপটও ছুঁয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি যেমন ভয়াবহ, তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়তো ভবিষ্যতে আসতে পারে। তবুও, তিনি মাহরীনের ব্যতিক্রমী কাজের উপর জোর দিয়েছেন: “অনিয়মের দেশে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির চেয়ে আরও ভয়াবহ অনেক কিছুই চলে আসবে সামনে, আমাদের নিয়তি এমনই। ভবিষ্যতের আলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় নিজেই পরপারে চলে গেলেন ম‍্যাডাম মাহরীন চৌধুরী।” তিনি আরও বলেন, “নিয়তির নিষ্ঠুরতাকে ব‍্যতিক্রম প্রমাণ করে মা, বাবা, শিক্ষক—এই তিনে কোনো পার্থক‍্য রাখতে দেননি দ্য সিক্রেট সুপারস্টার ম‍্যাম মাহরীন। বিনম্র শ্রদ্ধা, শোক পরিণত হোক শক্তিতে। আকস্মিক ঝড়ে ঝরে যাওয়া সব ফুল প্রস্ফুটিত হোক জান্নাতের বাগানে, আমিন।”

মাহরীনের স্বামী মনসুর হেলাল বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর সঙ্গে হওয়া একটি হৃদয়বিদারক কথোপকথন শেয়ার করেছেন। যখন তিনি মাহরীনকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন সে নিজের দুই সন্তানের কথা একবারও ভাবেনি, তাঁর উত্তর ছিল তাঁর অটল নিষ্ঠার প্রমাণ: “ওরাও তো আমার সন্তান। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি?”

মাহরীন চৌধুরীর কর্ম শিক্ষকতার সর্বোচ্চ আদর্শকে মূর্ত করে তোলে – এমন একটি পেশা যা প্রায়শই বইপত্র এবং শ্রেণীকক্ষের বাইরে গিয়ে প্রায় মাতৃত্বসুলভ যত্ন ও দায়িত্ববোধের দাবি রাখে। তাঁর গল্প ট্র্যাজেডির মুখে যে অবিশ্বাস্য সাহস জেগে উঠতে পারে, এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক অসংখ্য জীবনে কি গভীর প্রভাব ফেলতে পারেন, তার এক স্পষ্ট স্মারক। তিনি কেবল পাঠদান করেননি; তিনি আমাদের আত্মত্যাগ, কর্তব্য এবং অটল ভালোবাসার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

Related Articles