ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলা এক ফেসবুক পোস্টে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী আবেলা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমাদের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থায়ী ও টেকসই শান্তি খুঁজে বের করার প্রতি মাল্টার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।” এই ঘোষণার মাধ্যমে মাল্টা ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ইউরোপের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নিজ নিজ দেশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। মূলত, ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে একটি নতুন কূটনৈতিক গতি সঞ্চার করেছে।
এর আগেও প্রধানমন্ত্রী আবেলা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রথমে মে মাসে এবং পরবর্তীতে জুনে জাতিসংঘের একটি সম্মেলনের সময় এই স্বীকৃতি দেওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলনটি স্থগিত হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়।
মাল্টা সরকারের ওপর দেশের ভেতর থেকেও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছিল। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির মধ্য-ডানপন্থী বিরোধী দলও অবিলম্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
ভূমধ্যসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষার এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মাল্টার এই পদক্ষেপের আগে, গত মে মাসে ইউরোপের আরও তিনটি দেশ—আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং স্পেন—একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক 주목 আকর্ষণ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাল্টার এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের আন্তর্জাতিক বৈধতা আরও শক্তিশালী করবে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান প্রক্রিয়ার ওপর নতুন করে আলোকপাত করবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র : ইত্তেফাক
