বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন ট্র্যাভেল এজেন্সি “ফ্লাইট এক্সপার্ট” এর বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহক এবং বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সির শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় দেশের পর্যটন এবং ই-কমার্স খাতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) সকাল থেকেই ফ্লাইট এক্সপার্ট-এর ওয়েবসাইট (flightexpert.com) অকার্যকর দেখা যাচ্ছে এবং তাদের ঢাকার প্রধান কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। বহু চেষ্টার পরও প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
হঠাৎ করেই সব বন্ধ
হলিডে ট্র্যাভেলার্স অফ বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ফ্লাইট এক্সপার্ট থেকে যারা টিকিট করেছেন কিন্তু এখনো ফ্লাই করেননি, তারা একটু টিকিটের বর্তমান স্ট্যাটাস চেক করুন। আমি বার বার বলি, দাম কম না খুঁজে মান/সার্ভিস ভালো খুঁজেন। ফ্লাইট এক্সপার্টের সব সেবা বন্ধ।” এই পোস্টের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং ভুক্তভোগীরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে থাকেন।
ফ্লাইট এক্সপার্টের সেলস ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মী, মামুনুর রশিদ, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতেই আমাদের মালিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।” এই খবরে ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং বিনিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের উত্থান এবং পতন
২০১৭ সালের মার্চ মাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাশ্রয়ী মূল্যে বিমানের টিকিট এবং অন্যান্য ভ্রমণ সেবা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমানের টিকিট, হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ এবং ভিসা প্রসেসিং-এর মতো সেবা দিয়ে এটি বাংলাদেশের অনলাইন ট্র্যাভেল ইন্ডাস্ট্রিতে একটি প্রভাবশালী নামে পরিণত হয়েছিল।
তবে এই আকস্মিক পতনের পেছনে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও দায়ী করা হচ্ছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সালমান অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে সমস্ত দোষ তার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ফ্লাইট এক্সপার্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তাদের সর্বশেষ পোস্টে ২০২৬ সালের হজের রেজিস্ট্রেশন শুরুর বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, যা দেখে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে। যারা অগ্রিম টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছেন বা বিভিন্ন প্যাকেজ কিনেছেন, তারা এখন তাদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এই ঘটনাটি দেশের অনলাইন ব্যবসা এবং ই-কমার্সের প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে দোষীদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভুক্তভোগীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন সকলে।
সূত্র : Somoynews
