Falcon Feed

অ্যাপলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড, আইফোন ১৬ এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়: টিম কুক

অ্যাপলের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড, আইফোন ১৬ এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়: টিম কুক

সদ্য প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অ্যাপল জানিয়েছে, তাদের ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মূলত বাজারে নতুন আসা আইফোন ১৬ সিরিজের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার কারণেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাপল সম্প্রতি তাদের ২০২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে, যা প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এই বিশাল আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে আইফোন বিক্রি থেকে।

সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মার্টফোন হলো আইফোন ১৬ সিরিজ। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে বাজারে আসা আইফোন ১৫ সিরিজের তুলনায় নতুন এই সিরিজটি বিক্রি এবং জনপ্রিয়তা উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।

কুক আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের আয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তাঁর মতে, এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে মূল কারণ হলো আইফোন ১৬ সিরিজের প্রতি গ্রাহকদের বিপুল আগ্রহ, বিশেষ করে পুরনো আইফোন ব্যবহারকারীরা নতুন মডেলে আপগ্রেড করার জন্য বিশেষভাবে আগ্রহী হয়েছেন। আইফোন ১৬, ১৬ প্লাস, ১৬ প্রো এবং ১৬ প্রো ম্যাক্স—এই চারটি মডেলই গ্রাহকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে এর নতুন ফিচার, উন্নত ক্যামেরা এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের জন্য।

তিন বিলিয়ন আইফোন সরবরাহের মাইলফলক

এই প্রান্তিকে অ্যাপল আরও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। টিম কুক ঘোষণা করেন, ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৩০০ কোটি আইফোন সরবরাহ করেছে অ্যাপল। এটি প্রযুক্তি শিল্পে একটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমদানি শুল্কের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক গ্রাহক আগেভাগেই নতুন আইফোন কিনে নিচ্ছেন, যা বিক্রির এই ঊর্ধ্বগতিতে প্রভাব ফেলেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ট্যারিফ নীতির কারণে এরই মধ্যে অ্যাপলের ব্যয় বেড়েছে। গত প্রান্তিকে এই খাতে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি ডলার এবং আগামী প্রান্তিকে এই ব্যয় ১১০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই শুল্কের বিষয়টি অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : প্রথমআলো

Related Articles