নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বঙ্গোপসাগরের জলভাগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে বঙ্গোপসাগরের একটি বড় অংশও আমাদের দেশের অন্তর্ভুক্ত। অথচ আমাদের পরিকল্পনা প্রায়শই শুধু ভূখণ্ড কেন্দ্রিক হয়ে থাকে।ড. ইউনূস বলেন, “আমরা প্রায় সময় সময় জাতীয়ভাবে আমাদের অর্ধেক দেশ নিয়ে মাথা ঘামাই, বাকি পানিভিত্তিক অর্ধেক দেশকে হিসাবেই ধরি না। কারণ আমরা ঐ অংশে বসবাস করি না। আমরা তো ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করি—তাই তাকে হিসেবের বাইরে রাখি।”তার এই বক্তব্য আমাদের উন্নয়ন ভাবনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি নিয়ে যতটুকু আলোচনা হচ্ছে, তা এখনো নীতিনির্ধারণী স্তরে সেভাবে প্রভাব ফেলেনি। অথচ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা—বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা—প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, যার মধ্যে রয়েছে গ্যাস, মাছ, শিপিং রুট এবং পর্যটনের অপার সম্ভাবনা।ড. ইউনূসের এই বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ শুধু ভূমিপৃষ্ঠের দেশ নয়—জলভাগও আমাদের সম্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে এই জলভাগকে দেশের সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যাতে সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নৌযান, টেকসই মাছ ধরার পদ্ধতি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।📢 এই বক্তব্য বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক চিন্তাধারাকে আরও জোরদার করতে প্রেরণা জোগাবে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
