Falcon Feed

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা: ডিসেম্বরে ভোটের দিনক্ষণ, ইউনূসের চিঠিতেই সক্রিয় কমিশন

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা: ডিসেম্বরে ভোটের দিনক্ষণ, ইউনূসের চিঠিতেই সক্রিয় কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার কমিশনের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লা এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডঃ ইউনূসের দফতর থেকে পাঠানো চিঠি পাওয়ার পরই কমিশন দ্রুততার সাথে নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিশ্রুতির সূত্র ধরেই বুধবার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দফতরের মুখ্যসচিব এম সিরাজউদ্দিন মিঞা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে, রমজান মাস শুরুর আগে ‘প্রত্যাশিত মানের অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন’ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এই চিঠি প্রাপ্তির পরই নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক সম্পন্ন করে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লা আরও জানান যে, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ভোটগ্রহণ করতে হলে অন্তত দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সেই হিসেবে ডিসেম্বরেই ভোটের দিন ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে কমিশন।

ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাঁরা ভোটার হিসাবে নাম নথিভুক্ত করবেন, তাঁরা আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।”

এছাড়াও, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্বাচন কমিশন কাজ করছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সানাউল্লা বলেন, “প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন।” এই ব্যবস্থায়, দলীয় ও নির্দলীয় প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা প্রতীকসহ ব্যালট পেপার প্রবাসী ভোটারদের কাছে পাঠানো হবে, যাতে তারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এবং জনগণের মধ্যে একটি নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সকলের দৃষ্টি এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Source: Anandabazar

Related Articles