বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। সমালোচনার মুখে পড়ে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে লেখা পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন তিনি। এতে তিনি দায়িত্ব পালনের সময়কালে অর্জিত সম্মান, অভিজ্ঞতা এবং সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করলেও, সাম্প্রতিক বিতর্ক তার পদে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন করে তুলেছে বলে স্বীকার করেন।রুশনারা তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, আইন মেনে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ তা প্রমাণ করে। তবে তিনি বোঝেন, তার বর্তমান অবস্থান সরকারের কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তাই মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।তিনি বলেন, উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং গৃহহীনতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিদেশি অনুদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ১৬-১৭ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার এবং জনজীবনে হয়রানি বন্ধে আইন পাস করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।তবে সম্প্রতি একটি বিতর্কে জড়ান রুশনারা, যেখানে অভিযোগ ওঠে—পূর্ব লন্ডনের তার টাউনহাউস থেকে ৪ জন ভাড়াটিয়াকে বের করে দিয়ে বাড়িভাড়া ৭০০ পাউন্ড বাড়ান তিনি। একসময় ভাড়াটিয়াদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিলেও, নিজের ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়।সিলেটে জন্ম নেওয়া রুশনারা আলী ২০১০ সাল থেকে টানা পাঁচবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ছিলেন ব্রিটেনে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি, যিনি বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার বেথনালগ্রিন ও স্টেপনি আসন থেকে নির্বাচিত হন। তার পদত্যাগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আমার দেশ
