Falcon Feed

নেশার ছোবলে মানবতার বলি: তিন মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রি করলো বাবা!

নেশার ছোবলে মানবতার বলি: তিন মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রি করলো বাবা!

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে আসা একটি খবরে সমাজ আবারও স্তম্ভিত। যে বাবা কাঁধে করে সন্তানকে পৃথিবী চেনানোর কথা, সেই বাবাই কি না মাত্র তিন মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রি করে দিলো—শুধুমাত্র নেশার টাকা জোগানোর জন্য! ঘটনাটি যেমন মর্মান্তিক, তেমনি আমাদের সমাজের এক ভয়াল অন্ধকার দিককে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের আকবর পাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত বাবা, মিরাজ উদ্দীন (৩০), পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। মাত্র দুই বছর আগে তার বিয়ে হয় আসমাউল হোসনার সঙ্গে, এবং তাদের ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান, জান্নাতুল মাওয়া মিমহা। কিন্তু কে জানতো, এই আলো নেশার অন্ধকারে এভাবে হারিয়ে যেতে বসবে?

ঘটনার নেপথ্যে

জানা যায়, মিরাজ দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মকভাবে মাদকে আসক্ত ছিল। তার স্ত্রী আসমাউল হোসনা জানান, নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। কিন্তু সেই নির্যাতন যে এতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা হয়তো তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে মিরাজ তার তিন মাস বয়সী একমাত্র সন্তানকে উপজেলার মছদিয়া এলাকায় বিক্রি করে দেয়।

ভাবতে পারেন, একজন বাবা কতটা বিবেকহীন হলে এমন কাজ করতে পারে? যে শিশুটির পৃথিবীতে আসার পেছনে তারই অবদান, সেই শিশুর জীবনকে সে তুচ্ছ করে দেখলো কয়েকটি মাদকের বড়ির জন্য।

পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপ ও শিশুর উদ্ধার

সৌভাগ্যবশত, এই অমানবিক ঘটনাটি চাপা থাকেনি। খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে মছদিয়া এলাকা থেকে শিশু মিমহাকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছোট্ট শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যে মা তার সন্তানকে হারিয়ে প্রায় পাগলপারা, তার কাছে এর চেয়ে বড় স্বস্তি আর কী হতে পারে?

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শিশুটিকে নিরাপদে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত বাবা মিরাজ উদ্দীনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সমাজের জন্য সতর্কীকরণ

এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় ধরণের জেগে ওঠার সংকেত। মাদকের ভয়াবহ ছোবল কীভাবে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে, কীভাবে একজন বাবাকে তার পিতৃত্বের পরিচয় ভুলিয়ে দিতে পারে, এটি তার এক নির্মম উদাহরণ।

আমাদের চারপাশে এমন অনেক মিরাজ হয়তো মাদকের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনই সময় সচেতন হওয়ার। পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসন—সকলকে একসঙ্গে এই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। প্রতিটি পরিবারে ভালোবাসা ও সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তিকে হতাশা বা অন্য কোনো কারণে নেশার জগতে পা বাড়াতে না হয়।

আজ মিমহা তার মায়ের কোলে ফিরে এসেছে, কিন্তু এমন ঘটনা যেন আর কোনোদিন সংবাদ শিরোনাম না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

Source: Dhakapost

Related Articles