পাকিস্তান ক্রিকেটে যেন অশনি সংকেত। একের পর এক निराशाजनक পারফরম্যান্সের পর এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।ล่าสุด ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৪ বছর পর ওডিআই সিরিজ হারের লজ্জাটা যেন পিসিবির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। যার ফলে, দলের তারকা ক্রিকেটার বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানদের মতো খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বোর্ড।
পারফরম্যান্সের করুণ চিত্র: চলতি বছর পাকিস্তান জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ এক কথায় নিম্নমুখী। শেষ ৩টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ১টিতে, ১১টি ওডিআই খেলে জিতেছে মাত্র ২টি ম্যাচে। এমনকি সম্প্রতি বাংলাদেশের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের ক্ষত এখনো টাটকা। এমন ক্রমাগত খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে, পিসিবি এখন ক্রিকেটারদের লাগাম টানার চেষ্টা করছে।
যেভাবে বেতন কমছে: ভারতের সংবাদ মাধ্যম “টাইমস নাউ”-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পিসিবি তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের বেতনের একটি বড় অংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন ক্রিকেটাররা তাদের বার্ষিক বেতনের বাইরে আইসিসির লভ্যাংশ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইসিসির লভ্যাংশের ৩ শতাংশ আর ক্রিকেটারদের দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটাররা। এতদিন ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা আইসিসির লভ্যাংশ থেকে বছরে প্রায় ২৭ লাখ পাকিস্তানি রুপি পেতেন। ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের ক্রিকেটারদের জন্য এই অঙ্কটা ছিল যথাক্রমে প্রায় ১৫ লাখ ও ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি।
কার বেতন কত কমবে? পিসিবির এই সিদ্ধান্তে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো সিনিয়র ‘এ’ গ্রেড ক্রিকেটারদের বার্ষিক আয় প্রায় ৩১.৫ শতাংশ কমে যাবে। অন্যদিকে, শাহিন আফ্রিদি ও নাসিম শাহের মতো তারকা বোলারদের বার্ষিক আয় কমবে প্রায় ৩৩.৩৩ শতাংশ। এটি নিঃসন্দেহে ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
নতুন চুক্তির অপেক্ষা: জানা গেছে, আসন্ন এশিয়া কাপের আগেই পিসিবি ক্রিকেটারদের সঙ্গে নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণা করতে পারে। এই নতুন চুক্তিতে পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তরুণ ব্যাটসম্যান হাসান নওয়াজসহ বেশ কিছু নতুন মুখ কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, যা দলের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পিসিবির এই পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দলে জায়গা ধরে রাখতে হলে পারফর্ম করার কোনো বিকল্প নেই। এই কঠোর সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, পারফরম্যান্সের চাপ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভব করবেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।
Source: ITV
