ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে নতুন বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার (১৭ আগস্ট) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিদিনই এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ওয়াশিংটন। তিনি সতর্ক করে জানান, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে এবং যে কোনো সময় এটি ভেঙে যেতে পারে।রুবিও তাঁর বক্তব্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত মে মাসে দুই দেশের সামরিক সংঘাতের সময় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান। যদিও ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে যে এই যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের কোনো ভূমিকা নেই, তবে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের অবদানকে স্বীকার করেছে।তিনি আরও বলেন, “আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো একজন ব্যক্তি আমাদের প্রশাসনে ছিলেন। তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।” রুবিও উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে শান্তি রক্ষার প্রচেষ্টার কথা।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সহজ নয়, কারণ দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও সীমান্তে সংঘর্ষের ইতিহাস শান্তি রক্ষাকে কঠিন করে তুলেছে। ওয়াশিংটন তাই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে যে কোনো অস্থিরতা রোধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। “যেকোনো সুযোগে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালাব,” বলেন রুবিও।এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখছে এবং তাদের মধ্যকার যেকোনো সংঘাত বৈশ্বিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : চেনেল ২৪
