দনবাস, অর্থাৎ দোনেৎস বেসিন অঞ্চল, বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কয়লা ও ভারী শিল্পে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে সোভিয়েত শিল্পায়নের মূল কেন্দ্র ছিল এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষ রুশ ভাষাভাষী। ২০১৪ সালে ক্রেমলিনপন্থি প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দনবাসে সংঘাত শুরু হয়। একই সময়ে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ‘‘পিপলস রিপাবলিক’’ ঘোষণা করে।২০২২ সালে পুতিন দনবাসের রুশভাষীদের সুরক্ষার অজুহাতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করেন। বর্তমানে লুহানস্ক পুরোপুরি এবং দোনেৎস্কের এক তৃতীয়াংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ইউক্রেন এখনও ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ শহর ধরে রেখেছে। দনবাসের ৮৮% ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে থাকলেও বাকি অংশের জন্য তীব্র যুদ্ধ চলছে।শান্তিচুক্তির আলোচনায় দনবাস কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ পুতিন প্রকাশ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছেন। তিনি এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দনবাসের বিনিময়ে খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে আর অগ্রসর হবেন না। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে নারাজ। জরিপেও দেখা গেছে, প্রায় ৭৫% ইউক্রেনীয় নাগরিক রাশিয়ার কাছে জমি ছেড়ে দেওয়ার বিপক্ষে।বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল দনবাসে সীমাবদ্ধ নয়। সুযোগ পেলেই তিনি নতুন ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা চালান। তবে অর্থনৈতিক ও সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়া দনবাসের বাইরে অনেক দূর অগ্রসর হতে পারবে না বলেই অনেকের ধারণা। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কাছে দনবাস ছাড়ার অর্থ হবে নিজেদের ভূখণ্ডে রাশিয়াকে প্রবেশদ্বার দেওয়া। তাই দনবাস ঘিরেই শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
