Falcon Feed

দীর্ঘদিনের সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার মেঘনা নদীতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার: মৃত্যুর আগে পাঠালেন ‘শেষ লেখা’

দীর্ঘদিনের সাংবাদিক বিভূরঞ্জন সরকার মেঘনা নদীতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার: মৃত্যুর আগে পাঠালেন ‘শেষ লেখা’

প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভূরঞ্জন সরকার (৭১) এর মরদেহ নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ঢাকা সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে দৈনিক আজকের পত্রিকা অফিসের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন, তবে আর ফিরে আসেননি। পরে শুক্রবার কালাগাছিয়া ইউনিয়ন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি সকাল ৯টার দিকে একটি লেখা পাঠান bdnews24.com-এ। সেখানে শেষে একটি তাৎপর্যপূর্ণ লাইন লিখেছিলেন— “এটি আমার শেষ লেখা হিসেবে প্রকাশ করতে পারেন।” সেই লেখাটির শিরোনাম ছিল “খোলা চিঠি”, যা শুক্রবার ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।পাঁচ দশকের সাংবাদিকতা জীবনে বিভূরঞ্জন সরকার কাজ করেছেন দৈনিক আজাদ, সংবাদ, রূপালী, দৈনিক মাতৃভূমিসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। তিনি মৃদুভাষণ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেন্সরশিপ ও রাজনৈতিক দমনপীড়নের সময় তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে কলাম লিখেছেন।শেষ লেখায় তিনি নিজের দীর্ঘ পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা খোলাখুলি তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, “আমি সত্য, মানুষ ও দেশের জন্য লিখেছি। কিন্তু সত্য লিখে বাঁচা সহজ নয়।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর লেখা বিভিন্ন পত্রিকা ফিরিয়ে দিয়েছে, আবার অনেকেই সম্মানীর টাকা পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেন ব্যক্তিগত জীবনে বিভূরঞ্জন সরকার ভুগছিলেন নানা রোগে—আর্থ্রাইটিস, লিভারের জটিলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ। মাসে কেবল ওষুধের পেছনেই খরচ হতো প্রায় ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ছেলের চিকিৎসা ও পরিবারের চাপে তিনি প্রচণ্ড ঋণের ভারে জর্জরিত ছিলেন।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পঞ্চাশ বছরের সাংবাদিকতা করেও কোনো বিশেষ সুযোগ বা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাননি। তাঁর কন্যা সরকারি চাকরির অপেক্ষায় স্থবির হয়ে আছেন এবং বুয়েট থেকে পাশ করা ছেলে কাজ খুঁজে পাচ্ছে না—এসব বিষয়ও তিনি লেখায় উল্লেখ করেন।শেষ লেখায় তিনি বিদায়ের সুরে লিখেছিলেন— “আমার জীবনে কোনো সফলতার গল্প নেই। দুঃখই হোক জীবনের শেষ সঙ্গী। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ সুখী হোক।” যেন একদিকে তাঁর আত্মকথা, অন্যদিকে দেশের গণমাধ্যমের সীমাবদ্ধতার একটি মর্মস্পর্শী দলিল।

সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles