চীন আগামী রোববার ও সোমবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে। এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজের কয়েক দিন আগে। উক্ত কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও অংশ নেবেন।এসসিও বর্তমানে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং বেলারুশকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া আরও ১৬টি দেশ পর্যবেক্ষক বা “ডায়ালগ পার্টনার” হিসেবে যুক্ত আছে। সংস্থাটিকে অনেক সময় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পাল্টা শক্তি হিসেবেও দেখা হয়।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে চীনের তাইওয়ান ইস্যুতে এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এসসিও হচ্ছে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে চীন-রাশিয়া নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও অ-পশ্চিমা জোটকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্মেলনে বড় কোনো চুক্তি বা বাস্তব পদক্ষেপের চেয়ে বরং আড়ম্বর ও বার্তা প্রদানে বেশি গুরুত্ব দেবে চীন। কারণ, এসসিও “সম্মতির ভিত্তিতে” কাজ করে এবং ভারত-পাকিস্তান কিংবা চীন-ভারতের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো একসঙ্গে থাকায় উচ্চাভিলাষী সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়টি সম্মেলনে আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হলেও তা মুখ্য ইস্যু হবে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ সম্মেলনে যোগ দিয়ে চীন-রাশিয়ার অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ সফরটি ২০১৮ সালের পর চীনে তাঁর প্রথম সফর। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও সম্প্রতি সম্পর্ক কিছুটা শীতলতা কাটিয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন ভারতকে আকৃষ্ট করতে চাইবে, বিশেষ করে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে। তবে মৌলিক দ্বন্দ্বগুলো সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
You can share this post!
