Falcon Feed

আড়াই বছর পর ভারত থেকে এলো ৬০ টন পেঁয়াজ, কমতে শুরু করেছে বাজারদর

আড়াই বছর পর ভারত থেকে এলো ৬০ টন পেঁয়াজ, কমতে শুরু করেছে বাজারদর

আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। এক সপ্তাহে মোট তিনটি চালানে ৬০ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। প্রথম চালান আসে ২৫ আগস্টে ১৫ টন, দ্বিতীয় চালান ২৮ আগস্টে ৩০ টন এবং সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর রাতে তৃতীয় চালানে আরও ১৫ টন পেঁয়াজ প্রবেশ করে। ইতোমধ্যেই এসব চালান আমদানিকারকরা খালাস করেছেন।

আমদানিকৃত প্রতিটি টন পেঁয়াজের মূল্য ধরা হয়েছে ৩০৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৭ হাজার ৪২৯ টাকা। এর ফলে প্রতি কেজির আমদানি মূল্য পড়ছে প্রায় ৩৮ টাকা। বাজারে এসব পেঁয়াজ মানভেদে ৫৭ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে আমদানির খবরেই বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলছে।

২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়, যদিও তার আগেই বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছিল। এ কারণে দেশে উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছিল, যা ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ায়।

সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবারও আমদানির অনুমতি দিয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাগেরহাটের এসএম ওয়েল ট্রেডার্স এবং রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং করপোরেশন। খালাস কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছে সিঅ্যান্ডএফ লিংক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধকেন্দ্রের উপসহকারী শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে এসএম ওয়েল ট্রেডার্স ৪৫ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং মান পরীক্ষার পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বন্দর পরিচালক শামীম হোসেনও নিশ্চিত করেছেন যে, এক সপ্তাহে তিন চালানে মোট ৬০ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে এবং এগুলো বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে।

পেঁয়াজ আমদানির ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles