ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোল হাফিজিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। শনিবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে একটি বালুভর্তি ট্রাকের পেছনে ঢুকে পড়ে শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের এক সহযোগী নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন সুপারভাইজার রবিউল (৩০) ও বাসচালক।পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, নিহত রবিউল পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ওয়াজেদ আলীর ছেলে। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এবং চালককে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিউল মারা যান। পরে চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ট্রাকচালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, “বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সহযোগী ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং সুপারভাইজার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আমরা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছি।”এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় যানজট স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে মহাসড়কে দ্রুতগামী যানবাহন ও দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, গাড়ির গতিনিয়ন্ত্রণ ও রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
