বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে লোহিত সাগরে সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায়। প্রায় ১৪ লাখ কিলোমিটার বিস্তৃত মাইক্রোসফটের ফাইবার অপটিক কেবল বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শনিবার সৌদি আরবের জেদ্দার কাছাকাছি এলাকায় কয়েকটি সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাইক্রোসফটের ডেটা সংরক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাজুর ক্লাউড কম্পিউটিং’। এর ফলে ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ইন্টারনেট সংযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।যদিও মাইক্রোসফট দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি, তবে জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অন্যান্য অঞ্চলে প্রভাব খুব একটা পড়েনি। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।এদিকে, ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি রবিবার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহতে প্রকাশিত বিবৃতিতে কেবল বিচ্ছিন্ন করার দায় স্বীকার করেছে। তবে, আন্তর্জাতিক মহলে এ ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড সেবা ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামাসের কার্যক্রম শনাক্ত করতে ব্যবহার করে থাকে। যদিও এ অভিযোগ মাইক্রোসফট সরাসরি অস্বীকার করেছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাসিত সরকার সতর্ক করেছিল যে হুতিরা লোহিত সাগরের আন্ডারসি কেবলে হামলার পরিকল্পনা করছে। সে সময়ও কয়েকটি কেবল বিচ্ছিন্ন হলেও হুতিরা দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু এবার সরাসরি দায় স্বীকার করায় এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।এই ঘটনায় শুধু ইন্টারনেট নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফলে এ সংকট মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
সূত্র : যমুনা টিভি
