বিএনপির অন্যতম তরুণ এবং স্পষ্টভাষী নেতা, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, প্রস্তাবিত আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিস্টেমকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন। তার এই পোস্টে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দেন, জীবন দিয়ে হলেও দেশবিরোধী শক্তিকে রুখে দেবেন।
পিআর সিস্টেম: সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি?
ইশরাক হোসেন তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এই মুহূর্তে পিআর পদ্ধতির জন্য এতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে? তিনি এর পেছনে দুটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেন:
১. নগণ্য দলগুলোর ক্ষমতায় আসার চক্রান্ত: ইশরাকের মতে, যে দলগুলোর জনসমর্থন একেবারে তলানিতে, তারা পিআর সিস্টেমকে ব্যবহার করে একটি বড় দলের সাথে আঁতাত করতে পারে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতীকে ওই বড় দলের ভোট কাস্ট করিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল বা দেশের নিয়ন্ত্রণে অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তিনি এটিকে একটি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।
২. বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থানের ভয়: তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যাদের অনেকেই বিদেশি শক্তির, বিশেষ করে ভারতের মদদপুষ্ট। গত ১৭ বছরে এমন একটি সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে যারা বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার স্বপ্ন দেখে। ইশরাক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি যদি পিআর সিস্টেমের ফাঁক গলে সংসদে প্রবেশ করে এবং দেশের কোনো অংশকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি তোলে, তবে সাংবিধানিকভাবে তা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।
‘৭১ ও ‘২৪ এর রাজাকার একই সূত্রে গাঁথা
ইশরাক তার পোস্টে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী এবং বর্তমানের “পতিত” শাসকদের মধ্যে একটি সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করেছেন। তিনি লিখেন, “অতীতে যারা স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি এবং বর্তমানকালে যারা পতিত হয়েছে তারাও স্বাধীন বাংলাদেশ বিক্রি করেছে। দুইটা একই জিনিস।” তার মতে, এই দুই গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা, এমনকি যদি তার জন্য দেশের স্বার্থ প্রভুদের কাছে বিকিয়ে দিতে হয়। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “এখন পাকিস্তানপন্থি আর ভারতপন্থি দুইটাই মিল্লা গেছে।”
রাজপথ ইজারা দেওয়া হয়নি: কঠোর হুঁশিয়ারি
ইশরাক হোসেন তার পোস্টে সকল দেশবিরোধী শক্তিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “বাংলাদেশের জনগণ কোনো দালালদের কাছে রাজপথ ইজারা দেয় নাই। দেশবিরোধী কাজ যারা করবে, তাদের পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে।”
দেশপ্রেমের এক জ্বালাময়ী প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তার পোস্ট শেষ করেন এই বলে: “দেশের জন্যে জীবন দিয়ে দেব, তবু একাত্তর আর চব্বিশ, এই দুই প্রজাতির রাজাকারদের হতে বা অন্য যে কোনো দেশের দালালদের কাছে নত হবো না ইনশাআল্লাহ।”
ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পিআর সিস্টেমের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে তার এই উদ্বেগ দেশের ভবিষ্যৎ এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে সচেতন মহলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Source: Ittefaq
