যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। গতরাতে (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্কে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। বিমানবন্দরে অবতরণের পরই একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক তাদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য ও গালমন্দ করতে থাকে।
এক পর্যায়ে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও গালমন্দ করা হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা আবারও প্রমাণ করলো– আওয়ামী লীগ তাদের অন্যায়ের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজ পর্যন্ত যা অন্যায় করেছে, সবকিছুর বিচার আইনের মাধ্যমে হবে। দল ও দেশের স্বার্থে ধৈর্য ধরুন।’ তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিএনপি এই ঘটনাকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এর সমাধানের কথা ভাবছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বিদেশের মাটিতে দেশের রাজনীতিবিদদের এইভাবে হেনস্তা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকেও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, তিনিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রভাব:
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিউইয়র্কের এই ঘটনা সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আগামী দিনের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দেশের বাইরে এ ধরনের সহিংস আচরণ প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।
Source: Jugantor
