Falcon Feed

অভিনয়ের আড়ালে অন্ধকার: শ্রীপুরের রিসোর্টে মডেলকে গণধর্ষণ

অভিনয়ের আড়ালে অন্ধকার: শ্রীপুরের রিসোর্টে মডেলকে গণধর্ষণ

আলো ঝলমলে পর্দার পেছনের জগৎ কতটা অন্ধকার হতে পারে, সেই নির্মম সত্যই যেন আবার উন্মোচিত হলো। অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে এক উঠতি মডেলকে গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণের মতো পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় একজন নাট্য পরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতিতা নারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ:

মামলার এজাহার এবং নির্যাতিতার ভাষ্যমতে, ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নাটকে অভিনয়ের কথা বলে তাকে ঢাকার মিরপুর থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের ‘রাজ রিসোর্ট’-এ নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নাটকের পরিচালক মো. নাছির (৩৫), তার সহযোগী মো. বাবর (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা ৬০ বছর বয়সী রিসোর্টের মালিক последовательно ধর্ষণ করেন।

নির্যাতিতা আরো জানান, অভিযুক্তরা তাকে কেবল শারীরিক নির্যাতনই করেনি, মদের বোতল ভেঙে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। পরদিন (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে মারধর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার ব্যবহৃত প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।

মামলা দায়ের ও পুলিশের পদক্ষেপ:

ঘটনার আকস্মিকতা এবং আসামিদের প্রভাবের কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারী অবশেষে ২৫ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। নির্যাতিতা নারীকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য ও অন্যান্যদের নীরবতা:

এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিচালক নাছিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার মতে, তিনি এবং অন্যরা সেখানে কেবল ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ‘রাজ রিসোর্ট’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি, যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

উপসংহার:

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করলো যে, স্বপ্নের জগতে পা রাখার পথে নতুনদের কতটা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। একজন শিল্পীর স্বপ্নকে পুঁজি করে এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুততার সাথে তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনবে এবং নির্যাতিতা নারী যেন ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের উচিত এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিভা এমন নির্মমতার শিকার না হয়।

Source: Somoynews

Related Articles