এশিয়ার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপে এখন উত্তেজনার চূড়ান্তে দাঁড়িয়ে ইন্দোনেশিয়া। কিংবদন্তি ডাচ ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের নেতৃত্বে দেশটি প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে। ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য এখন এশিয়ার দুটি শেষ আসন নির্ধারণ হবে—আর সেই লড়াইয়ে ছয়টি দেশ রয়েছে প্রতিযোগিতায়।ইন্দোনেশিয়া রয়েছে ‘বি’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব ও ইরাক। সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে জেদ্দায়, অর্থাৎ সৌদি আরবের মাঠে, যা নিঃসন্দেহে আয়োজক দেশের জন্য বাড়তি সুবিধা। তবুও ক্লুইভার্ট আশাবাদী, তাঁর দল দেশের গৌরব রক্ষায় সেরাটা দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের জনগণকে গর্বিত করতে প্রস্তুত।”ক্লুইভার্ট জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেন, এবং এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে তিনটি জিতেছেন, দুটি হেরেছেন ও একটি ড্র করেছেন। তাঁর অধীনে ইন্দোনেশিয়া ফুটবলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া কিন্তু ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত এক ডজনেরও বেশি খেলোয়াড়কে নাগরিকত্ব দিয়েছে, যাতে দলকে আন্তর্জাতিক মানে শক্তিশালী করা যায়।এই নবজাগরণ এসেছে এমন এক সময়, যখন তিন বছর আগে দেশটি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। ২০২২ সালে একটি ঘরোয়া ম্যাচে স্টেডিয়ামে পদদলিত হয়ে ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়—যা ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। সেই শোকের পর এখন পুরো জাতি ক্লুইভার্টের দলের দিকে তাকিয়ে আছে নতুন আশার প্রতীক হিসেবে।অন্যদিকে, ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। সব ম্যাচ কাতারে অনুষ্ঠিত হবে, যা বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের জন্য স্পষ্ট সুবিধা। কাতার দলটি এখন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও স্পেন কোচ হুলেন লোপেতেগির অধীনে খেলছে।এই দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। আর দুই গ্রুপের রানার-আপ দল নভেম্বর মাসে দ্বি-মুখী প্লে-অফ খেলবে, যার বিজয়ী যাবে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
