ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালেই আঘাত হানে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে মিন্দানাওয়ের বিভিন্ন শহরে ভবন দুলতে থাকে, মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পরই ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।মিন্দানাও দ্বীপটি ফিলিপাইনের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং ভূমিকম্প প্রবণ এলাকাগুলোর একটি। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থান করায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের শিকার হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিপাইন একাধিক বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছে।মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সেবু প্রদেশে ৬.৯ মাত্রার এক ভূমিকম্পে অন্তত ৭৪ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়। তারও একদিন আগে, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ধারাবাহিক ভূমিকম্পের কারণে স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি দেশের ভূগর্ভস্থ প্লেটের অস্থিরতার ইঙ্গিত হতে পারে।ফিলিপাইনের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ও জরুরি সেবাদানকারী বিভাগ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বড় ভূমিকম্পের পর আফটারশক বা পরাঘাতের সম্ভাবনা থাকে, যা আরও ক্ষতি করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী মিলে উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি জোরদার করছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করছে।
সূত্র : যমুনা টিভি
