আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, আদালতের রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সালাহউদ্দিনের মতে, আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল, তার তুলনায় শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম হলেও আইন অনুযায়ী এর চেয়ে বড় শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই রায় দেখিয়ে দিয়েছে—ফ্যাসিবাদ বা একনায়কতন্ত্র যতই শক্তিশালী হোক না কেন, একসময় তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে। তার ভাষায়, এটি ভবিষ্যতের নেতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে কেউ স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের চেষ্টা না করে। উল্লেখ করা হয় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে ফাঁসির দণ্ড দেন। একই মামলার আরেক আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের বাংলাদেশে অবস্থিত সম্পদ জব্দ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করে। এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতারা এটিকে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ভিন্নধর্মী। সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, বিএনপি এই রায়কে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাববাহী হিসেবে দেখছে। সব মিলিয়ে, এই রায় শুধু মামলার রায় নয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের ক্ষমতাকাঠামো
সূত্র : যমুনা টিভি
