সম্প্রতি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকার কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করে গুরুতর নকশাগত ও প্রকৌশল ত্রুটি শনাক্ত করেছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)। এসব ত্রুটি রাজধানীর ভবন নির্মাণ মান, কোড মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল রোববার স্বামীবাগ, সুত্রাপুর ও ধানিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করে। দলে সিভিল, স্ট্রাকচারাল, জিওটেকনিক্যাল এবং বিল্ডিং সেফটি বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে যেসব ঝুঁকি পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে—অপ্রতুল বা ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোগত নকশা, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, রেট্রোফিটিং-এর অভাব, বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা (BNBC) না মানা, এবং নির্মাণ–পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। তাদের মতে, এসব ত্রুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
তিন এলাকায় তিন ধরনের ঝুঁকির চিত্র পাওয়া গেছে। স্বামীবাগের মিতালি স্কুলে রড উন্মুক্ত, কংক্রিট ক্ষয় ও শিয়ার ক্র্যাক দেখা গেছে—যা দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার ইঙ্গিত। সুত্রাপুরের ১০২/১ ভবনে অনুভূমিক ও তির্যক ফাটল পাওয়া গেছে, যা নকশা ও নির্মাণ ধাপের ত্রুটি নির্দেশ করে। ধানিয়ার বর্ণমালা স্কুলে মাটির উপযুক্ততা যাচাই না করায় ভিত্তি-সংক্রান্ত জিওটেকনিক্যাল ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইইবি বলেছে, এসব ভবনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত ইঞ্জিনিয়ারিং মূল্যায়ন (DEA) প্রয়োজন। তাদের মতে, ডিইএ ছাড়া ভবনগুলো ব্যবহারযোগ্য নাকি খালি করা উচিত—তা নির্ধারণ করা অসম্ভব।
সংগঠনটি জানায়, ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে BNBC কঠোরভাবে প্রয়োগ, পুরোনো ভবনের বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, রেট্রোফিটিং নির্দেশনা এবং তদারকি জোরদার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সরকারকে সমর্থনের আশ্বাসও দিয়েছে আইইবি।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
