গুয়াহাটি টেস্টে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজিত হয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ভারত। দুই ম্যাচ সিরিজে ২–০ তে ক্লিন সুইপ নিশ্চিত করেছে টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন দল। এই হারের মধ্য দিয়ে ভারতের টেস্ট ইতিহাসে রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ডও গড়ে যায়। এর আগে ২০০৪ সালে নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৪২ রানের ব্যবধানে ভারতের সবচেয়ে বড় হার ছিল।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারত পুরো ম্যাচ জুড়েই ছন্নছাড়া ছিল। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৮৯ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। তাদের পক্ষে সেনুরান মুথুস্বামীর সেঞ্চুরি এবং মার্কো ইয়ানসেনের ৯৩ রানের ইনিংস পার্থক্য গড়ে দেয়। জবাবে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে মাত্র ২০১ রানে অলআউট হয়। বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন ইয়ানসেন—২০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৬টি উইকেট।
২৮৮ রানের বড় লিড পাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দ্রুত রান তোলে। ট্রিস্টান স্ট্যাবস সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ৯৪ রানে আউট হলে তারা ২৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে ভারতের সামনে দাঁড়ায় অসম্ভব প্রায় ৫৪৯ রানের লক্ষ্য—যা টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলই কখনো তাড়া করে জিততে পারেনি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের ব্যাটাররা একের পর এক ধসে পড়তে থাকে। দুই ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ও অধিনায়ক কেএল রাহুল শুরুতেই আউট হয়ে চাপ বাড়ান। পঞ্চম দিনের সকালে সেই ধস আরও গভীর হয়। কুলদ্বীপ যাদব (৫), ধ্রুব জুরেল (২), রিশাভ পান্ত (১৩), সাই সুদর্শন (১৪)—কারও ব্যাট থেকেই আসে না প্রতিরোধ। একপ্রকার লড়াই করেন শুধু রবীন্দ্র জাদেজা, যিনি সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। দল লাঞ্চের আগেই গুটিয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হার্মার নেন ৬ উইকেট, কেশভ মহারাজ ২ এবং ইয়ানসেন ১ উইকেট দখল করেন।
এই হারের মাধ্যমে নিজেদের মাটিতে ২৫ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারল ভারত। ব্যাটিং, বোলিং ও কৌশলের ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রতিফলন ছিল এই হোয়াইটওয়াশ
সূত্র : আমার দেশ
