বাংলাদেশ সরকার এবার দেশের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে চরম সংকটে পড়েছেন ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা এবং বাংলাদেশের একটি অংশের বড় আমদানিকারকরাও। দীর্ঘদিন ধরে যে সিন্ডিকেট পেঁয়াজ আমদানি নির্ভরতা বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করত, এবার সেই সিন্ডিকেট কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ বিভিন্ন সীমান্তে এখন অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ রোদ-বৃষ্টি-আর্দ্রতায় পচতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতি কমাতে মাত্র ২ রুপি কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে নাসিক থেকে পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি কেজির খরচ হয়েছে ২২ রুপি। এ কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রায় ৩০–৪০ জন বড় আমদানিকারকও কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বাংলাদেশের আমদানিকারকরা দাবি করছেন, তারা অগ্রিম অর্ডার দিয়ে সীমান্ত পর্যন্ত পেঁয়াজ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সরকার ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না দেওয়ায় সেই পেঁয়াজ খালাস করা সম্ভব হয়নি। এতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা—কোনো সিন্ডিকেট আর বাজারকে জিম্মি করতে পারবে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. জামাল উদ্দীন জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বাবলম্বী। ২৮ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ৪৪ লাখ টন। এখনো কৃষকের হাতে পুরোনো তিন লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আছে এবং ডিসেম্বরে আরও আড়াই লাখ টনের বেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ফেব্রুয়ারিতে মৌসুমী উৎপাদন শুরু হলে সরবরাহ আরও বাড়বে।
সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চাপ বা আদালতের নির্দেশনা যাই থাকুক, কৃষকের স্বার্থেই এবার আমদানির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যেখানে সীমান্তে পচা পেঁয়াজ আলাদা করতে শ্রমিক ভাড়া করছেন, সেখানে বাংলাদেশের সিন্ডিকেটভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সর্বোপরি, এই সিদ্ধান্ত বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা চক্রকে ধরাশায়ী করেছে, যা কৃষক ও সাধারণ ভোক্তা—দু’পক্ষের জন্যই ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র : আমার দেশ
