আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথম ধাপে ১২৫ জনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এবং জুলাই আন্দোলনের সময় আইকনিক স্যালুট দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া রিকশাচালক মোহাম্মদ সুজন এই তালিকায় স্থান পাননি। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হলেন তিনি।
সুজন গত ২০ নভেম্বর ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। বাংলামোটরের একই অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই তিনি ফরম সংগ্রহ করেন। ফরম নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সুজন জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশা চালানোর সময়ই আন্দোলনের দিনগুলোতে পরিচিতি পেয়েছেন এবং সেই পরিচিতির ভিত্তিতেই এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। তাঁর ভাষায়, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশা চালাই। আন্দোলনের সময় এখানেই পরিচিতি পাইছি। তাই আমি এই আসন থেকেই নির্বাচন করতে চাই। আমি নিজেই এই আসনটা বাইছা নিছি।”
সুজনের প্রত্যাশা ও জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক তালিকায় জায়গা না পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচনী অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা একজন সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন ছিল। তবে এনসিপি কেন তাঁকে বাইরে রাখল, সে বিষয়ে দলটি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় দলটির পক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়, দলীয় নীতিমালা, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতির ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুজনের মতো মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয় একজন কর্মীর বাদ পড়া এনসিপির তরুণ সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। নির্বাচন ঘিরে মানুষের উৎসাহ ও প্রত্যাশা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবুও সুজনের প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা একটি সাধারণ মানুষের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার সাহসী প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।
সূত্র : ঢাকা পোস্ট
