অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র প্রতিনিধি—তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া—আজ বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে সরকারি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য দিনেই দুজনের পদত্যাগকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে উপদেষ্টাদের বৈঠকেও পদত্যাগের বিষয়টি তুলে আসে এবং সন্ধ্যায় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরেই তাঁদের পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল; তবে দুজনই আরও সময় চান। বিশেষ করে মাহফুজ আলম সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং নির্বাচনে না দাঁড়ানোর কথাও জানিয়েছিলেন। পরে গত মাসে উচ্চপর্যায় থেকে আবারও পদত্যাগের জন্য তাগাদা দেওয়া হয়। সরকারের অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করেন, তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাদের আর পদে থাকা যুক্তিসঙ্গত হবে না, তাঁরা নির্বাচন করুন বা না করুন—পদত্যাগ জরুরি।
এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার দুপুর ৩টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সেখানেই আসতে পারে। সরকার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে—সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যই হতে পারে পদত্যাগ জানানো।
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতাকে উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হন। পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ।
দুজনেরই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছে। আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিএনপিও ওই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় তাঁর দলীয় পরিচয় স্পষ্ট হয়নি। অপরদিকে মাহফুজ আলমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপি নতুন মনোনয়ন দেওয়ায় তাঁরও সেখানে ভোটের সম্ভাবনা কমে গেছে।
এনসিপি–এবি পার্টি–রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নতুন জোট ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনার জন্ম হয়েছে, সেখানে এই দুই উপদেষ্টার এনসিপির মনোনয়ন নেওয়া বা জোটে যুক্ত হওয়া নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগে এই পদত্যাগ রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র : প্রথম আলো
