ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “একদিকে পানি চাওয়া, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়া—এই দুই একসঙ্গে চলতে পারে না।” জয়শঙ্করের মতে, পাকিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়, তাহলে আগে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে ভারতকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই করছে পাকিস্তান। কিন্তু ভারত আর এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি মেনে নেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং এ বিষয়ে ভারতকে কী করতে হবে, তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।
পানি ইস্যুতে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান বারবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি ব্যবহার করছে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তার ভাষায়, “আপনি যদি শান্তি চান, তাহলে সন্ত্রাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।”
ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করে, তবে দুর্বলতা দেখানো ভারতের নীতি নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ভারতের অগ্রাধিকার হলেও, তা হবে পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণের ভিত্তিতে।
বিশ্লেষকদের মতে, জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে—সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের এই অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরাই এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
সূত্র : msn
