আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিরপেক্ষতা ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একটি মৌলিক শর্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ঘটনায় এই মানদণ্ড পূরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রেক্ষাপটে মতামত উঠেছে যে, এমন পরিস্থিতিতে কোনো দেশকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কঠোর মূল্যায়ন করা।
এই মতামতে বলা হচ্ছে, বর্তমান বাস্তবতায় ভারত আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসছে। তাই সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যৌথ উদ্যোগে অন্যান্য ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্থাপন করা প্রয়োজন। লক্ষ্য হবে—আয়োজক দেশ হিসেবে যোগ্যতা নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা।
তুলনামূলকভাবে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পরও বাংলাদেশে ফুটবল, ক্রিকেট, মার্শাল আর্টসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে একাধিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভারতীয় খেলোয়াড় ও দলগুলো নিরাপদ, সম্মানজনক এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে। কোনো ধরনের বৈরী আচরণ বা নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ ওঠেনি। এটি প্রমাণ করে যে, ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়, বরং পেশাদারিত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবই মুখ্য হওয়া উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে মত দেওয়া হচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর উচিত আয়োজক দেশ নির্বাচনের সময় শুধু অবকাঠামো নয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও অতিথি দেশগুলোর প্রতি আচরণও বিবেচনায় নেওয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের কণ্ঠ একত্রিত হলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে পারে। উদ্দেশ্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে বিরোধিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায়, নিরাপত্তা ও সমতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সূত্র : Asif Mahmud
