Falcon Feed

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা ঝুঁকি স্তর কঠোর: বাংলাদেশসহ চার দেশে বড় পরিবর্তন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা ঝুঁকি স্তর কঠোর: বাংলাদেশসহ চার দেশে বড় পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি PRISMS-এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের Country Assessment Level (CAL) বা প্রমাণভিত্তিক ঝুঁকি স্তর হালনাগাদ করেছে। ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসা ব্যবস্থায় উদ্ভূত সততা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করা, একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বজায় রাখা।

অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ AL-1 থেকে AL-3, ভারত, নেপাল ও ভুটান AL-2 থেকে AL-3, এবং শ্রীলঙ্কা AL-1 থেকে AL-2-এ উন্নীত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বশেষ মূল্যায়ন হালনাগাদ হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার পরিবর্তন আসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এজেন্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার (IEAA) সিইও ফিল হানিউড এই ঘন ঘন পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বছরের শুরুতেই ভর্তি কার্যক্রম যখন গুরুত্বপূর্ণ, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও নিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তবে শিক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক সফরে পাওয়া তথ্যে আর্থিক ও একাডেমিক নথিতে জালিয়াতির প্রবণতা বাড়ার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। তাই প্রকৃত শিক্ষার্থী বাছাইয়ের জন্য নথিপত্র যাচাই আরও কঠোর করা হচ্ছে।

গ্লোবাল রিচের সিইও রবি লোচন সিং বলেন, ভারতের ক্ষেত্রে ঝুঁকি স্তর বাড়া প্রত্যাশিত হলেও বাংলাদেশ ও নেপালের পরিবর্তন অনেকের জন্য অপ্রত্যাশিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব দেশ থেকে ভিসা অনুমোদনের হার তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু শিক্ষার্থী বিকল্প ভিসার পথে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুই ধরনের জালিয়াতি বেশি দেখা যাচ্ছে—একটি হলো ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক নথি, আরেকটি হলো তথাকথিত “সার্চ ফান্ড”, যেখানে প্রকৃত অর্থ থাকলেও তা শিক্ষার্থীর পরিবারের নয়। এসব কারণে ভবিষ্যতে শুধু দেশ নয়, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি স্তরও বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পথকে আরও কঠোর ও প্রমাণনির্ভর করে তুলেছে।

সূত্র : The Koala

Related Articles