রাজধানী ঢাকায় একই দিনে মাদক কারবারের দুটি বড় কেন্দ্রের সন্ধান পেয়েছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পৃথক অভিযানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে একটি ভেজাল মদের কারখানা এবং পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকায় একটি আধুনিক গাঁজা সদৃশ মাদক ‘কুশ’ উৎপাদনের ল্যাব শনাক্ত করা হয়। এসব অভিযানে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসির কর্মকর্তারা বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান। একটি সাধারণ আবাসিক ফ্ল্যাটের বাথরুম, বেডরুম ও অন্যান্য কক্ষ ব্যবহার করে সেখানে ভেজাল মদ উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযানে ১৩২ লিটার বিভিন্ন কেমিক্যাল, ৭৯ বোতল ভেজাল মদ এবং ১৬৬ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ জানান, বিদেশি ব্র্যান্ডের বোতলে টিউনিংয়ের মাধ্যমে ভেজাল মদ ভরে সেগুলো বাজারজাত করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এসব মদ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ও পার্টি স্পটে সরবরাহ করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, একই সময় ডিএনসি ওয়ারী এলাকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালায়। এর সূত্রপাত হয় ৩ জানুয়ারি বিদেশগামী একটি পার্সেল থেকে ইয়াবা জব্দের ঘটনায়। পার্সেলটির প্রেরক এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে ওয়ারীর একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে গাঁজা সদৃশ মাদক ‘কুশ’ উৎপাদনের একটি আধুনিক ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানে কুশের বীজ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয় এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ল্যাবটির মূলহোতা তৌসিফ দেশের বাইরে পালিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
মো. বশির আহমেদ আরও জানান, এসব ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানা ও ভাটারা থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীতে আবাসিক এলাকায় এমন মাদক কারখানা ও ল্যাবের সন্ধান পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছে।
সূত্র : Akattor tv
