Falcon Feed

হঠাৎ উধাও শহরের কাকেরা, বাড়ছে উদ্বেগ ও কৌতূহল

হঠাৎ উধাও শহরের কাকেরা, বাড়ছে উদ্বেগ ও কৌতূহল

এক সময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের আকাশ, গাছপালা আর ছাদের কোণে কাকের ডাক ছিল নিত্যদিনের চেনা দৃশ্য। কিন্তু হঠাৎ করেই অনেক শহরে কাকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কমে গেছে। কোথাও কোথাও একেবারেই দেখা যাচ্ছে না কাক। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবেশবিদদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাক শুধু একটি পাখি নয়; এটি পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আবর্জনা পরিষ্কার করা, মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা—এই কাজে কাকের ভূমিকা অপরিসীম। কাকের হঠাৎ কমে যাওয়া মানে পরিবেশের ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া।

এর পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রথমত, অতিরিক্ত কীটনাশক ও বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার। খাবারের সঙ্গে এসব বিষ শরীরে ঢুকে কাকের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মোবাইল টাওয়ার ও বৈদ্যুতিক তরঙ্গের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন পাখিদের দিকনির্দেশনা ও প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া শহরের সবুজ এলাকা কমে যাওয়া, পুরোনো গাছ কেটে ফেলা, খোলা ডাস্টবিন কমে যাওয়া এবং খাবারের অভাবও কাকের সংখ্যা হ্রাসের বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে কাকের নিরাপদ আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, কাকের এই নিখোঁজ হওয়া আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। এখনই যদি পরিবেশবান্ধব নীতি গ্রহণ, রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং শহরে সবুজায়ন বাড়ানো না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রাণী হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাকের নীরবতা যেন আমাদের প্রকৃতি রক্ষার তাগিদই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র : the daily star

Related Articles