রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ছয় নারীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মগবাজার, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত নারীরা হলেন—মগবাজার এলাকার শম্পা আক্তার (২৬), গুলশান কালাচাঁদপুরের সাদিয়া রহমান মীম (২৭), বাড্ডা আফতাবনগরের সুবর্ণা আক্তার, মিরপুরের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিম, ডেমরার পূর্ব বক্সনগরের কোহিনূর এবং যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকার আশা আক্তার। পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ঘটনায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে একটি ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।
গুলশানে উদ্ধার হওয়া সাদিয়া রহমান মীমের মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় এটি হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে। অন্য ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্য সমস্যা ও ব্যক্তিগত মানসিক সংকটের কথা উঠে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সব ঘটনায়ই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। কয়েকটি ঘটনায় স্বামী বা নিকট আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো ঘটনায় অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এই ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সচেতনতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে পরিবারে পারস্পরিক বোঝাপড়া, মানসিক সহায়তা এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
সূত্র : Independent TV
