বিতর্ক যেন তার পিছু ছাড়ে না, নাকি তিনিই বিতর্ককে খুঁজে নেন – এ প্রশ্ন এখন অনেকের মনে। বাংলাদেশের আলোচিত ও সমালোচিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল আবারও খবরের শিরোনাম হলেন, তবে কোনো নতুন গানের জন্য নয়, বরং পুরনো সেই একই অভিযোগ – মাতলামি এবং সহিংস আচরণ। শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে মদ্যপ অবস্থায় একজন উবার চালককে মারধরের অভিযোগে তাকে আটক করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যরাতে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গায়ক নোবেল তার স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদকে নিয়ে একটি উবার ভাড়া করে হাবুলের পুকুরপাড় এলাকায় তার গন্তব্যে পৌঁছান। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পরেও তিনি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং চালকের সাথে অসংলগ্ন কথাবার্তা ও গালাগাল শুরু করেন।
ভুক্তভোগী উবার চালক আকবর হোসেন জানান, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নোবেল অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তার উপর চড়াও হন, তাকে শারীরিকভাবে মারধর করেন। এই দৃশ্য দেখে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায় এবং নোবেল জনতার রোষানলে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ নোবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং চালকসহ ভাড়ায় চালিত গাড়িটিকেও থানায় নিয়ে যায়।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “নোবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তার বক্তব্য শোনা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি।
এই ঘটনা নোবেলের বিতর্কিত জীবনের নতুন এক সংযোজন। মাত্র কিছুদিন আগেই, গত ২৪ জুন, তিনি নারী নির্যাতনের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তার স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদের করা সেই মামলায় গত ২০ মে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আদালতের নির্দেশে গত ১৯ জুন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে শুনানিতে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি না থাকায় আদালত তাকে জামিন দেন।
জামিনে মুক্তির এক মাস না পেরোতেই আবারও একই ধরনের অভিযোগে নোবেলের আটক হওয়ার ঘটনা তার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এই গায়কের ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে, তা সময়ই বলে দেবে। ভক্ত ও সমালোচকরা এখন তাকিয়ে আছেন পুলিশি তদন্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
——–
Source : Kalerkantho
——–
