Falcon Feed

হাসিনাকে ফেরানোর গোপন ছক ফাঁস: আওয়ামী লীগের নতুন ষড়যন্ত্র যেভাবে ব্যর্থ হলো

হাসিনাকে ফেরানোর গোপন ছক ফাঁস: আওয়ামী লীগের নতুন ষড়যন্ত্র যেভাবে ব্যর্থ হলো

গত বছরের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই একটি স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে পরাজিত শক্তি যে চুপ করে বসে নেই, তার প্রমাণ আবারও মিলল। দেশকে অস্থিতিশীল করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার এক বিশাল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আড়ালে বড় ধরনের নাশকতার এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেল দেশ।

পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা?

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই ভয়াবহ চক্রান্তের নির্দেশনা আসছিল বিদেশ থেকে। আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এবং শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শেখরের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে বড় ধরনের সহিংসতা সৃষ্টি করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন যুবলীগ নেতা সোহেল রানা এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা। তাদের নেতৃত্বেই সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীদের একত্রিত করে নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল।

প্রশিক্ষণের আড়ালে নাশকতার ছক

ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য গত ৮ জুলাই রাজধানীর একটি অভিজাত কনভেনশন হলে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না এর ভেতরের উদ্দেশ্য। জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে হলটি ভাড়া নেন শামীমা নাসরিন শম্পা। বলা হয়েছিল, বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য লোকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই প্রশিক্ষণের আড়ালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বাছাই করা ৪০০ নেতাকর্মীকে জড়ো করা হয়। পরিচয় গোপন রাখতে তারা রাজমিস্ত্রি, কার্পেন্টার, মালি ইত্যাদি শ্রমজীবী মানুষের ছদ্মনাম ব্যবহার করে। দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে তাদের শেখানো হয়:

  • কীভাবে এবং কোথায় হামলা চালাতে হবে (মূল টার্গেট ছিল শাহবাগ)।
  • ঘটনার পর কীভাবে আত্মগোপন করতে হবে।
  • নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের গোপন কৌশল।
  • কীভাবে জনসমাগম ঘটিয়ে দেশকে অচল করে দেওয়া যায়।

যেভাবে ফাঁস হলো ষড়যন্ত্র

দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং এসবি প্রথম এই ষড়যন্ত্রের তথ্য পায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পরিকল্পনার মূল হোতা সোহেল রানা, সংগঠক শামীমা নাসরিন শম্পাসহ ঢাকা থেকে ১৪ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং সারা দেশেও অভিযান চালিয়ে আরও অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক প্রস্তুতি

গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে যেকোনো দিন হামলার চেষ্টা হতে পারে। এই ১১ দিনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, “পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির এই অপতৎপরতার বিষয়ে আমরা অবগত এবং সেই অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। মূল হোতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তারা সফল হতে পারবে না।”

একই সুরে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, “২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত যেকোনো নাশকতার আশঙ্কা মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। ঢাকা রেঞ্জে কোনো ফ্যাসিবাদী চক্রকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।”

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপে একটি বড় বিপদ থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশবাসীকেও সজাগ থাকতে হবে।

সূত্র : Jugantor

Related Articles