Falcon Feed

হিলি স্থলবন্দরে উচ্চ শুল্কে চাল আমদানি স্থগিত, ক্ষতির আশঙ্কায় পণ্য খালাসে অনীহা

হিলি স্থলবন্দরে উচ্চ শুল্কে চাল আমদানি স্থগিত, ক্ষতির আশঙ্কায় পণ্য খালাসে অনীহা

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে সরকারি অনুমতি থাকা সত্ত্বেও আমদানিকারকরা চালের চালান খালাস করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করছেন, বর্তমানে চাল আমদানিতে শুল্ক ও করের হার এতটাই বেশি যে আর্থিকভাবে আমদানি অযৌক্তিক হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চাল আমদানিতে মোট শুল্কহার ৬২.৫ শতাংশ, যা প্রতি কেজিতে প্রায় ৩১ টাকা যোগ করছে।ভারত থেকে চালের দাম টনপ্রতি ৫২০-৫৩০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কেজি প্রতি প্রায় ৬৩-৬৫ টাকা। শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে প্রতি কেজির খরচ দাঁড়াচ্ছে ৯৫-৯৬ টাকা। অথচ দেশে ভালো মানের চাল বাজারে কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ফলে আমদানিকারকদের জন্য এটি আর্থিকভাবে লোকসানের সমান।সরকার সম্প্রতি বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৫ লাখ টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে এবং ২৩ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে ২৪২ জন আমদানিকারককে অনুমতি দেওয়া হলেও, তাঁদের অনেকেই এখন এলসি খোলার পরও কার্যক্রম স্থগিত রেখেছেন।আমদানিকারক ললিত কেশরা বলেন, বর্তমান শুল্কে চাল আমদানি করা সম্ভব নয়। শুধু শুল্কেই কেজি প্রতি ৩৫ টাকা যোগ হচ্ছে, ফলে মোট খরচ কেজি প্রতি ১০০ টাকারও বেশি হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বলেন আবুল বাশার, যিনি ১ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেলেও শুল্ক না কমানো পর্যন্ত এলসি চালু করবেন না বলে জানান।এদিকে মঙ্গলবার ও বুধবার ১৫টি ভারতীয় ট্রাকে চাল এলেও তা কাস্টমস থেকে খালাস হয়নি। নওগাঁর আমদানিকারক মিঠুন সাহা বলেন, শুল্ক কমানোর আশায় চাল এনেছিলেন, কিন্তু তা না হওয়ায় খালাস করলে বড় লোকসান হবে।কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে শুল্ক হ্রাসের কোনো নির্দেশ আসেনি। ফলে বর্তমান ৬২.৫% শুল্কই বহাল রয়েছে। আমদানিকারকরা সতর্ক করেছেন, শুল্ক না কমালে আমদানিকৃত চাল স্থানীয় বাজারে সস্তা হবে না, বরং দাম বাড়ার ঝুঁকি থাকবে।

সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles