অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এক বছর পূর্ণ করেছেন শফিকুল আলম। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ দিন পর, ১৩ আগস্ট তিনি এই পদে নিয়োগ পান। বুধবার (১৩ আগস্ট) নিজের দায়িত্বের এক বছর পূর্তিতে ফেসবুক পোস্টে অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন তিনি।পোস্টে শফিকুল আলম তাঁর যাত্রাকে “চমৎকার” হিসেবে বর্ণনা করেন। বিদেশি সংবাদ সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করার পর সরাসরি সরকারে যোগদান তাঁর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি জানান, প্রেস সচিবের পদে যোগ দেওয়ার সময় এটি ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক, যেখানে কোনো বড় বাস্তব দায়িত্ব ছিল না। তাঁকেই শুরু থেকে পদটিকে গঠন ও কার্যকর করতে হয়েছে।নিজের কর্মদক্ষতা নিয়ে তিনি লিখেছেন, “আমি কি ভালোভাবে কাজ করেছি? আমার মনে হয়, হ্যাঁ।” তবে কিছু বন্ধু ও সহকর্মী ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যা তিনি সম্মান করেন। তাঁর মতে, নিজের বড় ভুলগুলো ছিল সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে—কখনও দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাতে প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি হয়েছে, আবার কখনও এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন যা দেওয়া উচিত ছিল না।শফিকুল আলমের মতে, যোগাযোগ একটি জটিল ও কঠিন ক্ষেত্র, যেখানে নিয়ম থাকলেও বাস্তবতা সবসময় তা মেনে চলে না। ব্যক্তিগত জীবনে এ বছর তাঁর পরিবার—স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোন—চাপ ও সমালোচনা সহ্য করেছে।তিনি জানান, কিছু তরুণ সাংবাদিক তাঁকে প্রকাশ্যে ‘স্পিন ডাক্তার’ বলে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, “আমি সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলি। ব্যাখ্যার পার্থক্য মানেই এক পক্ষ মিথ্যা বলছে না।”এক বছরে দায়িত্ব পালনকালে প্রাপ্ত কিছু প্রশ্ন তিনি “আলোচিত” হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে সাংবাদিকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দায়িত্ব পালন ছিল যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় ভরপুর।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
