Falcon Feed

এনএসআই নিয়োগে প্রভাব ও ‘র’-এর নেটওয়ার্ক: বিস্তৃত অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ

এনএসআই নিয়োগে প্রভাব ও ‘র’-এর নেটওয়ার্ক: বিস্তৃত অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ শোনা যায়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি মূলত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর নিয়োগ ও কাঠামোতে রাজনৈতিক ও বিদেশি প্রভাবের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW) বাংলাদেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য “স্বাধীন বঙ্গভূমি” আন্দোলন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহে জড়িত ছিল। এনএসআই তখন এসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিলেও, পরবর্তী সময়ে সংস্থাটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পরিকল্পনা শুরু হয়। বিশেষত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে এনএসআইয়ের ভেতরে ভারতপন্থি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।২০০৯ সালের পর থেকে কয়েক দফায় ব্যাপক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক আনুগত্য ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। মেজর জেনারেল (অব.) মনজুর আহমেদ থেকে শুরু করে পরবর্তী পরিচালকরা নিয়োগে ছাত্রলীগের সুপারিশ, আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব এবং ভারতীয় দূতাবাসের সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বৈধ সনদ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি প্রার্থীকে লাখ টাকার ঘুষ দিতে হয়েছে।বিশেষত ২০১১, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২০–২০২৩ সালের নিয়োগগুলোতে রাজনৈতিক ক্যাডার, আত্মীয়স্বজন ও ভারতীয় সংযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, এনএসআইয়ের একটি বড় অংশ সরাসরি সরকার ও বিদেশি স্বার্থে কাজ করেছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, ছাত্ররাজনীতি দমন ও বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে ভূমিকা রাখে।যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি এনএসআই কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছেন, তবুও গোয়েন্দা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

সূত্র : আমার দেশ

Related Articles