আজ ২০ আগস্ট, বিশ্ব মশা দিবস। ১৮৯৭ সালের এই দিনে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেছিলেন যে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু মশার মাধ্যমেই ছড়ায়। তার সেই আবিষ্কারকে স্মরণ করেই প্রতিবছর ২০ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় বিশ্ব মশা দিবস। এর লক্ষ্য হলো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, মশা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী। প্রতি বছর ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার ও জিকা ভাইরাসসহ নানা রোগে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়। কেবল ম্যালেরিয়ায়ই প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যার অধিকাংশই শিশু। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা এ রোগের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল।বাংলাদেশেও মশাবাহিত রোগ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষাকাল ও তার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য শহরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়াও জনগণের জন্য ভোগান্তি ডেকে এনেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা নিধনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি সরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, রাতে মশারি ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে মশা প্রতিরোধক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করা—এসবই মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।এই দিবসটি মশার গুরুত্বকেও তুলে ধরে। কারণ প্রকৃতির খাদ্যচক্রে মশার একটি ভূমিকা রয়েছে। তবে তাদের মাধ্যমে প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানো মানবজাতির জন্য বড় হুমকি। তাই রোগ প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, কার্যকর ভ্যাকসিন ও ওষুধ উদ্ভাবন, এবং নগর ব্যবস্থাপনায় টেকসই সমাধান বের করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র :যমুনা টেলিভিশন
