মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নামে গড়ে ওঠা এক বিশাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন স্বপনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সম্প্রতি তার এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। এই ঘটনাটি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আড়ালে চলা বিশাল দুর্নীতির চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে।
৮ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে যে, রুহুল আমিন এবং তার সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর নামে একটি চক্র তৈরি করে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে আদায় করে আত্মসাৎ করা হয়। অবৈধভাবে অর্জিত এই অর্থ দিয়ে রুহুল আমিন দেশে এবং বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে তিনি জমি ও বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ।
যেভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন রুহুল আমিন
রুহুল আমিন স্বপন, যিনি রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করেন, তার মালিকানাধীন জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান “ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল”-এর আড়ালে এই বিশাল সম্পত্তি গড়ে তোলেন। সিআইডির তথ্যমতে, শুধুমাত্র ঢাকার ভাটারা, বনানী ও উত্তরা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির নামে ৭টি দলিলে মোট ২৩১ কাঠা জমি রয়েছে। কাগজে-কলমে এই জমির মূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা দেখানো হলেও, অবকাঠামোসহ এর প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।
সিন্ডিকেটের বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে
সিআইডি জানিয়েছে, শুধু রুহুল আমিনই নন, এই জনশক্তি রপ্তানি সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে। যারা সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। মানিলন্ডারিং আইনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ঘটনাটি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বজায় রাখার জন্য এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
Source: Kalerkantho
