Falcon Feed

হবিগঞ্জের সিএনজি স্টেশনে আগুনে পুড়ল ১১টি যানবাহন

হবিগঞ্জের সিএনজি স্টেশনে আগুনে পুড়ল ১১টি যানবাহন

২১শে আগস্ট, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে একটি স্থানীয় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভোরের শান্ত পরিবেশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে ধ্বংসের চিহ্ন রেখে গেছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি গ্যাস রিফুয়েলিংয়ের সাথে জড়িত সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।

এক বিশৃঙ্খল সকাল: যেভাবে শুরু হলো আগুন

ঘটনাটি ঘটে সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আউশকান্দি ইউনিয়নের একটি সিএনজি স্টেশনে। একটি যাত্রীবাহী বাস গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ তার সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এই প্রাথমিক বিস্ফোরণ থেকে একটি ভয়ংকর আগুনের সূত্রপাত হয় যা অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিনিটের মধ্যেই একের পর এক যানবাহনে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত উৎস বাসটিকে গ্রাস করে এবং তার সাথে কাছাকাছি থাকা নয়টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং দুটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয়। আগুনের দ্রুত বিস্তারে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা নিজেদের সুরক্ষার জন্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

জরুরী পরিষেবার তৎপরতায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হলো

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একটি দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নবীগঞ্জ, ওসমানীনগর এবং বাহুবল থেকে তিনটি ইউনিট অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দমকলকর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হন।

হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ দ্রুত প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আরও একটি ভয়ঙ্কর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন: যদি আগুন স্টেশনের মূল গ্যাস স্টোরেজ ট্যাঙ্কে পৌঁছে যেত, তবে আরও অনেক বড় এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। দমকল কর্মীদের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার পরের পরিস্থিতি এবং মানবিক ক্ষতি

যদিও একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে, এই ঘটনার মানবিক ক্ষতিও কম নয়। আগুনে দুইজন স্টেশন কর্মীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাঁচজনকেই চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে, যা আঞ্চলিক ভ্রমণে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

যান্ত্রিক ত্রুটির সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণ করতে এখন তদন্ত চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ও তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রইল এবং আমরা তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

Source: Tbsnews

Related Articles