দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর সরকার নতুন করে আমদানির অনুমতি দেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি শুরু হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি দরে প্রতি কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে চালের দাম।বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩২টি ভারতীয় ট্রাকে সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল আমদানি হয়েছে। প্রথমদিকে শুল্ক নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চালের উপর মাত্র ২% শুল্ক আরোপ করে পরিপত্র জারি করে। এর ফলে আমদানির গতি আরও বাড়ে।হিলি বন্দরের আমদানিকারকরা জানাচ্ছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে চালের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। পাইকারি মোকামে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জাতের চালের দাম কমতে শুরু করেছে। যেমন—চিকন চাল কেজিতে ৬৮ টাকা, আঠাশ জাতের চাল ৫৪-৫৫ টাকা, আর স্বর্ণা জাতের চাল ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২-৩ টাকা কম।আমদানিকারকরা আশা করছেন, প্রতিদিন আমদানি অব্যাহত থাকলে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং বাজারে চালের দাম আরও কিছুটা কমবে। পাইকাররা বলছেন, কয়েকদিন আগেই যে দামে চাল কিনেছেন, বর্তমানে সেই একই চাল আরও সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা হিলি বন্দরে চাল কিনতে আসছেন।ভারত থেকে যে জাতের চাল আসছে তার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণা, সম্পা কাটারি, রত্না ও মিনিকেটসহ বিভিন্ন নন-বাসমতি চাল। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বাজারে এসব চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।সরকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ স্বাভাবিক করা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছিল। তবে নতুন করে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।সব মিলিয়ে বলা যায়, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় চালের ধারাবাহিক আমদানি দেশের চালের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
