Falcon Feed

ক্যামেরার পেছনের ‘ভয়ংকর’ তৌহিদ আফ্রিদি: সহকর্মীর চোখে এক অন্য জগৎ

ক্যামেরার পেছনের ‘ভয়ংকর’ তৌহিদ আফ্রিদি: সহকর্মীর চোখে এক অন্য জগৎ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তৌহিদ আফ্রিদির পরিচিতি দেশজুড়ে। তার হাসিখুশি উপস্থাপনা এবং লাইফস্টাইল ভ্লগিং তরুণ প্রজন্মের কাছে তাকে তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছে। কিন্তু ক্যামেরার সামনের এই ঝলমলে মানুষটির পেছনের রূপ কেমন? সম্প্রতি তার গ্রেপ্তারের পর এই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠেছে, আর সেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন তারই একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও বন্ধু, তানভীর রাহী। এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি আফ্রিদির যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।

ক্যামেরার সামনে এক, আড়ালে আরেক: তানভীর রাহীর একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি তৌহিদ আফ্রিদির দ্বৈত সত্তার কথা তুলে ধরেন। রাহীর ভাষ্যমতে, “ক্যামেরার সামনে আফ্রিদি একরকম হলেও ব্যক্তিজীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ—ক্যামেরার বাইরে সে ভয়ংকর একজন লোক।” তিনি আরও যোগ করেন, ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে আফ্রিদির প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে, তাকে সবাই বাঘের মতো ভয় পায়। এই মন্তব্যই প্রথমবার আফ্রিদির পাবলিক ইমেজকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

নির্যাতন ও ক্ষমতার দাপট: রাহী কেবল কথার কথা বলেই থামেননি, তিনি আফ্রিদির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার মতবিরোধের জেরে আফ্রিদির রোষানলে পড়েন রাহীসহ অনেকেই। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রাহী বলেন, “রাগ উঠলে সে বেল্ট খুলে আমাদের কুত্তার মতো পেটাতো।”

ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কীভাবে ভয় দেখানো হতো, তারও একটি চাঞ্চল্যকর উদাহরণ দেন তিনি। রাহী জানান, আন্দোলনের প্রায় দুই-তিন মাস পর এক রাতে আফ্রিদি তাকে ভিডিও কল দেন। ভয়ে ভয়ে কল ধরলে আফ্রিদি বলেন, “তোর সঙ্গে একজনের কথা বলাবো—সে শিগগিরই দেশের বড় মাপের কেউ হবে।” এরপর তিনি সাবেক ভিপি নূরের সঙ্গে রাহীর কথা বলিয়ে দেন। কল শেষে আফ্রিদির বার্তা ছিল স্পষ্ট— “বুঝছিস আমার অবস্থানটা? সাবধানে থাকিস।” এই একটি ঘটনাই ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রির আড়ালে চলতে থাকা ক্ষমতার খেলা এবং ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে আসে।

প্রতিশোধপরায়ণ এক সত্তা: তানভীর রাহীর মতে, আফ্রিদির মধ্যে انسانیت বা মনুষ্যত্বের লেশমাত্র নেই। তার মাথায় কেবলই প্রতিশোধের চিন্তা। রাহী বলেন, “কারে কারে ধরবেন, কারে কারে মারবেন—এই চিন্তাই তার মাথায়। আল্লাহ কখনও এমন মানুষকে ছাড় দেন না।” রাহীর এই কথাগুলো আফ্রিদির ব্যক্তিত্বের এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করে, যা তার লাখ লাখ ভক্তের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অজানা।

গ্রেপ্তার এবং আইনি প্রক্রিয়া: প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে আসামি করা হয়েছে। গত রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশালের বাংলাবাজার এলাকা থেকে সিআইডির একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এই মামলার ১১ নম্বর আসামি। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এই মামলার ব্যাপ্তি এবং অভিযুক্তদের তালিকা বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুনের মতো ব্যক্তিদের নামও এতে রয়েছে। শুধু তাই নয়, তৌহিদ আফ্রিদির বাবা এবং মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীও এই মামলার ২২ নম্বর আসামি হিসেবে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তানভীর রাহীর এই সাক্ষাৎকার তৌহিদ আফ্রিদির তারকাখ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভিন্ন মানুষের গল্প বলছে। আগে যা কেবল গুজব বা পরচর্চা হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন জনসাধারণের জ্ঞানে পরিণত হয়েছে।একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে কাছের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই ভয়ংকর তকমা—দুই মিলিয়ে তৌহিদ আফ্রিদির ভবিষ্যৎ এখন এক বড় অনিশ্চয়তার মুখে। সময়ই বলে দেবে, ক্যামেরার সামনের জনপ্রিয় আফ্রিদি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘ভয়ংকর’ আফ্রিদির মধ্যে আসল সত্যটা কী।

Source: Ittefaq

Related Articles