Falcon Feed

রাজধানীর বিজয়নগরে রণক্ষেত্র: জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

রাজধানীর বিজয়নগরে রণক্ষেত্র: জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

রাজধানীর রাজপথ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি এবং গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল বিজয়নগর এলাকা অতিক্রম করার সময় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা একে অপরের উপর চড়াও হলে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরস্পরবিরোধী অভিযোগ

এই সহিংস ঘটনার জন্য উভয় দলই একে অপরকে দায়ী করেছে।

  • জাতীয় পার্টির অভিযোগ: দলটির নেতা-কর্মীদের দাবি, গণ অধিকার পরিষদের মিছিল থেকে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছেন।
  • গণ অধিকার পরিষদের বক্তব্য: অন্যদিকে, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গণ অধিকার পরিষদের মিছিলে অতর্কিত হামলা করেছে।” তার অভিযোগ, মিছিলটি शांतिপূর্ণভাবে যাওয়ার সময় জাতীয় পার্টির কর্মীরাই প্রথম ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে উসকানি দেয়। তিনি আরও জানান, হামলায় আহত কর্মীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি, কঠোর নিরাপত্তা

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত হন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে বিজয়নগর ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনাটি চলমান রাজনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে একটি নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Source: Dhaka Tribute

Related Articles