Falcon Feed

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: থমকে গেছে কোলাহল, বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: থমকে গেছে কোলাহল, বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি

যে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকার কথা, সেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এখন এক অচেনা রূপ ধারণ করেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে নেমে এসেছে এক সুনসান নীরবতা। academic কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও চাপা উত্তেজনা আর আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মনে। আজ সোমবারও বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা।

ক্যাম্পাসের বর্তমান চিত্র: সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, শহীদ মিনার, বা গোল চত্বরের মতো ব্যস্ততম স্থানগুলো ছিল একেবারেই ফাঁকা। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে শিক্ষার্থীদের আড্ডা আর কোলাহলে মুখরিত থাকে, সেখানে এখন কেবল শূন্যতা। যদিও শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস এবং শিক্ষার্থীদের প্রধান বাহন শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, তবুও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাস যেন প্রাণহীন। তবে প্রশাসনিক ভবন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু ছিল, এমনকি কিছু নিয়োগ পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ জানান, রবিবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোমবারও ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত শীঘ্রই জানানো হবে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে: ঘটনার শুরু শনিবার মধ্যরাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী ক্যাম্পাসের কাছে তার ভাড়া বাসায় ফিরলে ভবনের দারোয়ান তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ছাত্রী জানান, দরজা খুলতে দেরি করায় দারোয়ান প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পরে তাকে চড় ও লাথি মারে।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অভিযুক্ত দারোয়ানকে ধরতে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে এই উত্তেজনা দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এক রণক্ষেত্রের রাত: শনিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষ। শিক্ষার্থীরা রড, পাইপ ও কাঠের লাঠি নিয়ে এবং গ্রামবাসীরা রামদা, রড ও পাইপ নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুরো জোবরা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ গ্রামের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে অনেক শিক্ষার্থী আটকা পড়েন এবং গুরুতরভাবে আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, এমনকি উপাচার্য ও প্রক্টর দফায় দফায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

আহতদের আর্তনাদ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ: এই ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থীকে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আহত সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ: হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।

উপসংহার: একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে এক গভীর недоверия জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রায় ২৭,৫৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছে সংশ্লিষ্ট সকলেই।

Source: Dhaka Tribute

Related Articles