মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত একটি বড় ধরনের ডকুমেন্ট জালিয়াতি চক্রকে সফলভাবে দমন করেছে দেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ (Jabatan Imigresen Malaysia – JIM)। গত ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে কুয়ালালামপুরের দুটি ভিন্ন স্থানে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই চক্রের মূল হোতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের বিবরণ
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের গোয়েন্দা শাখা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গোপন তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির পর এই অভিযানটি পরিচালনা করে। ২রা সেপ্টেম্বর সকাল ৯:৪০ মিনিটে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দফতরের বিশেষ গোয়েন্দা ও অপারেশন শাখার একটি দল কুয়ালালামপুরের জালান জেলাওয়াত (Jalan Jelawat) এবং জালান রাজাক ম্যানশন (Jalan Razak Mansion) এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায়।
আটককৃত এবং জব্দকৃত মালামাল
এই অভিযানে মোট পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের বয়স ১৯ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে দুজন এই চক্রের ‘মূল হোতা’ এবং বাকি তিনজন ‘সদস্য’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটককৃতদের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে:
- তিনজনের কাছে নির্মাণ খাতের অস্থায়ী কাজের ভিজিট পাস (PLKS) ছিল।
- একজনের কাছে স্টুডেন্ট পাস ছিল।
- অন্যজনের কাছে মালয়েশিয়ায় থাকার কোনো বৈধ নথি বা পাসপোর্ট ছিল না।
অভিযান চালানো স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- পাসপোর্ট: ৮টি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১টি আসল ভারতীয় পাসপোর্ট, ৩টি সন্দেহভাজন নকল বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং ৪টি সন্দেহভাজন নকল ইন্দোনেশিয়ান পাসপোর্ট।
- জালিয়াতির সরঞ্জাম: কম্পিউটার, প্রিন্টার, বিভিন্ন দেশের (বাংলাদেশ, মায়ানমার, পাকিস্তান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া) পাসপোর্টের ছাপানো পাতা ও কভার, স্বচ্ছ স্টিকার, বিভিন্ন রঙের কালি, কাগজ কাটার যন্ত্র, ছিদ্র করার যন্ত্র, সুতো, এবং নগদ RM ২,১০০.০০।
- অন্যান্য: ১১টি মোবাইল ফোন এবং চক্রের দ্বারা ব্যবহৃত একটি ‘ পেরোডুয়া আরুজ’ (Perodua Aruz) গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের কার্যপদ্ধতি
ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, নেপাল এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বিভিন্ন দেশের নকল পাসপোর্ট তৈরির পরিষেবা দিত। কর্তৃপক্ষের চোখ এড়াতে তারা বিলাসবহুল আবাসিক বাড়িকে তাদের কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত।
এই চক্রটি বাংলাদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে গ্রাহক খুঁজত, বিশেষ করে যাদের ফরেন ওয়ার্কার্স মেডিকেল এক্সামিনেশন (FOMEMA) স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন হতো। প্রতিটি নকল পাসপোর্টের জন্য তারা RM ১৫০ থেকে RM ২৫০ পর্যন্ত চার্জ করত। ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি গত তিন মাস ধরে তাদের এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
আইনি ব্যবস্থা
আটককৃত সকল বিদেশি নাগরিককে দেশের ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(l) ধারার অধীনে অপরাধমূলক কার্যকলাপের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তাদের পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক, দাতো’ জাকারিয়া বিন শাবান, এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিভাগটি অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখবে।
Source: Jabatan Imigresen Malaysia
