ইন্দোনেশিয়ায় চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিক্ষোভ দমনকালে পুলিশের সাঁজোয়া গাড়ির ধাক্কায় এক ডেলিভারি ড্রাইভার নিহত হন। এ ঘটনা বিক্ষোভ আরও তীব্র করে তোলে। নিহতের ঘটনায় জড়িত সাত কর্মকর্তার মধ্যে একজন—কসমাস কে গায়ে—কে ‘অপেশাদার আচরণের’ দায়ে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র ট্রুনোইউডো উইসনু আন্দিকো। তিনি এ ঘটনাকে “নিন্দনীয় কাজ” হিসেবে উল্লেখ করেন।বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সংবাদে জানানো হয়, কসমাসকে “অপমানজনকভাবে বহিষ্কার” করা হয়েছে। শুনানিতে তাকে কাঁদতে দেখা যায় এবং তিনি দাবি করেন, হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে তিনি আপিল করবেন বলে জানান। অন্যদিকে বাকি ছয় কর্মকর্তার ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত।ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশজুড়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য, আইনপ্রণেতাদের বিলাসী ভাতা ও পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে ছাত্র, শ্রমিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভে ইতোমধ্যেই অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন কনট্রাস জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্টো ঘোষণা করেছেন যে, সেনা ও পুলিশ কঠোর অবস্থান নেবে। তবে সমালোচনার মুখে তিনি কিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন। এর মধ্যে সংসদ সদস্যদের জন্য বিতর্কিত ৩ হাজার ডলারের আবাসন ভাতা বাতিল অন্যতম।বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিশেষভাবে ছাত্র ইউনিয়নগুলো সক্রিয় রয়েছে। অন্তত ১০টি ছাত্র সংগঠন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে বিক্ষোভকারীদের মুক্তি ও পুলিশের সহিংসতার তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলে, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্টের বিপরীতে আইনপ্রণেতাদের বিলাসিতা অমানবিক।
সূত্র : আলজাযীরা
