ঢাকা, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫ – রাজধানীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ দলটির আটজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল এবং নাশকতার পরিকল্পনার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন (পাভেল)। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেন এই ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনায় অর্থ সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কারা কারা গ্রেপ্তার হলেন?
গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তারা হলেন:
- সাদ্দাম হোসেন (৫০): নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
- মো. তানজিল হোসেন ওরফে অভি (২৯): পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
- এ কে এম খোরশেদ আলম (৬৫): ছাত্রলীগের বাউফল উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।
- মো. আনিসুর রহমান হাওলাদার (৪৩): বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
- মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে বাবলু (৬১): বংশাল থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা।
- আল মামুন ভূঁইয়া (২৯): উত্তরা পূর্ব থানার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
- মো. কায়কোবাদ ওসমানী (৫৩): যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য।
- মো. আনোয়ার হোসেন (৬০): মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার খিতিরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান।
অভিযান ও গ্রেপ্তার
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বৃহস্পতিবার রাতভর ও সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ডিবি-সাইবার বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থেকে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে, ডিবি মতিঝিল বিভাগ সবুজবাগের মানিকদিয়া থেকে তানজিল হোসেন ও আনিসুর রহমানকে এবং পান্থপথ থেকে এ কে এম খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও, ডিবি লালবাগ বিভাগ নয়াবাজার এলাকা থেকে দেলোয়ার হোসেনকে এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আল মামুন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। মধ্যরাতে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ও কাকরাইল এলাকা থেকে যথাক্রমে কায়কোবাদ ওসমানী এবং আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার এবং রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই নাশকতার পরিকল্পনার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং এর পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
Source: Prothomalo
