বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত জগতে তরুণ শিল্পী আহাসান তানভীর পিয়াল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। অড সিগনেচার ব্যান্ডের এই ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট মাত্র ২৬ বছর বয়সে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তার মৃত্যু ভক্তদের মনে এক অশেষ শূন্যতা তৈরি করেছিল। ব্যান্ড কর্তৃপক্ষও ঘোষণা করেছিল অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধের। তবে এক বছরের বেশি সময় পর অড সিগনেচারের প্রত্যাবর্তন ভক্তদের বুকে আবারও আশার প্রদীপ জ্বালায়।আজ, ১১ সেপ্টেম্বর, পিয়ালের জন্মদিনে তাকে স্মরণ করা হচ্ছে এক বিশেষ আবেগময় পরিপ্রেক্ষিতে। তার কণ্ঠে গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘আমার দেহখান’ যেন মৃত্যুর পর আরও গভীর তাৎপর্য পেয়েছে। গানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ব্যথা, অভিমান ও মৃত্যুচিন্তা তাকে ভক্তদের কাছে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। অনেকে গানটির আবহকে নব্বই দশকের আলোড়ন তোলা ব্যান্ড পেপার রাইমের ‘অন্ধকার ঘরে’–র সঙ্গে তুলনা করেন। আশ্চর্যের বিষয়, উভয় গানের ভোকালই পরপর মৃত্যুবরণ করেছেন—আহমেদ সাদ ক্যানসারে এবং আহাসান তানভীর পিয়াল সড়ক দুর্ঘটনায়।পিয়ালের গান, কণ্ঠ ও উপস্থিতি ভক্তদের কাছে ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। মঞ্চে উঠলে তার গান হয়ে যেত পায়রার মতো মুক্ত; ভক্তরা গান শুনতে নয়, বরং গান বাঁচতে যেতেন। তার অকালপ্রয়াণে ব্যান্ডসঙ্গীতপ্রেমীরা বুঝেছেন, শিল্পীরা চলে গেলেও তাদের গান বেঁচে থাকে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে।পিয়াল ছাড়া অড সিগনেচারের মঞ্চ যেন অসম্পূর্ণ। তবুও তার স্মৃতিকে শক্তি করে ব্যান্ডের অন্য সদস্যরা আবারও গান গাইতে শুরু করেছেন। কারণ, সংগীতই হলো সেই সেতু, যা মৃত শিল্পীকে জীবিতদের হৃদয়ের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পিয়ালের মতো শিল্পীরা শারীরিকভাবে না থাকলেও তাদের গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে থাকে।পিয়ালকে হারানোর বেদনা যেমন ভক্তদের কাঁদায়, তেমনি তার গানই আবার ভক্তদের সান্ত্বনা দেয়। এই দ্বৈত অনুভূতির ভেতর দিয়েই গড়ে ওঠে শিল্পীর প্রকৃত অমরত্ব। আজকের দিনে তাই আহাসান তানভীর পিয়ালকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পুরো দেশ।
সূত্র : যমুনা টিভি
